আইনশৃঙ্খলাদেশ বাংলা

পাগলার গ্রীন ডেলটা ক্লিনিকের ভুল চিকিৎসায় এক কিশোরীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি :

বৃহস্পতিবার (২০শে আগষ্ট) ফতুল্লা থানার পাগলার নয়ামাটি এলাকায় আয়েশা আক্তার আলফি(১৪) নামে এক শিক্ষার্থী বাড়ির ছাদে সমবয়সীদের সাথে খেলার সময় হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যায়। অসুস্থ আয়েশা পরে যাওয়ার ফলে ব্যাথা অনুভব করলে তার পরিবার স্থানীয় পাগলা বাজার কামালপুরে অবস্থিত গ্রীন ডেলটা ক্লিনিকে নিয়ে যায়।

হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়, আয়েশা কে কিছু চিকিৎসার পরে বলে তার পায়ের হাড় ভেংগে গেছে। এবং ইমার্জেন্সি তার অপারেশন করাতে হবে। মৃত আয়েশার অভিভাবক এখানে অপারেশন করাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও, তারা আস্থা দেয় তারা এটা সম্পন্ন করতে পারবে।

চিকিৎসার পূর্ববর্তী মূহুর্ত পর্যন্ত আয়েশা একদম স্বাভাবিক ছিলো। সে তার পরিবারের সকল লোকদের বলেছিল আমার কিছু হয়নি, আমার চিকিৎসা লাগবেনা। পরবর্তীতে অপারেশন থিয়েটারে অপারেশনে নিয়ে যাওয়ার হয়। নিয়ে যাওয়ার আগে তাকে অজ্ঞান করবে বলে Anthesia নামক ইনজেকশন পুশ করা হয়।

প্রথম ইনজেকশন ভুল যায়গায় পুশ করার ফলে কার্যকারিতা না পাওয়ায় চিকিৎসারত ডাক্তার মাসুদ রানা আবারো ইনজেকশন পুশ করে। এবং ওভার ডোজের কারনে একপর্যায়ে কোমায় চলে যেতে থাকে আয়েশা। মূহুর্তের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে যায় আলভীর পুরো শরীর।

অবস্থা বেগতিক দেখে গ্রীন ডেলটা কতৃপক্ষ জানায় আয়েশার আই.সি.ইউ সাপোর্ট লাগবে। যা তাদের এখানে না থাকায়, তারা তাদের অন্য শাখা ধোলাইপাড় ডেলটা হসপিটালে,যাত্রাবাড়ী শাখায় নিয়ে যায় এবং দীর্ঘ ৩ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর আজ ২৩শে আগষ্ট সকালে আই.সি.ইউ রুমে আলফির বড় ভাই হাসিবুল হাসান শান্ত(২২) প্রবেশ করে দেখতে পায় যে ইতিমধ্যে আলফির সমস্ত শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে এবং পালস বন্ধ হয়ে যাওয়াতে নিশ্চিত হন তার বোন আর নেই।

ডাক্তারদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানোয় আয়েশার পরিবার অপেক্ষায় থাকে এবং একপর্যায়ে তাদের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবর আসে।

আয়েশার বাবা মিজানুর রহমান তার আদরের মেয়ের এই এই মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, এভাবেই ভুল চিকিৎসায় হারিয়ে যায়, আমার সোনার টুকরো।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, আমার মেয়ে ডাক্তারদের ভূল চিকিৎসায় মরেছে। আমি এর বিচার চাই। ডাক্তার রা ইনজেকশন আমার মেয়ের হাড়ে না দিয়ে রগে পুশ করে আবার পর পর দুইটা ইনজেকশন যা আমার মেয়ে সইতে পারেনি। আইসি ইউ তে আমার ছেলে জোড় করে না ঢুকলে ওরা মরার কথাও গুপন রাখতো।

আয়েশার বড় ভাই শান্ত বলে, নামধারী ক্লিনিক খুলে ভুল চিকিৎসা প্রয়োগ করে রোগীর মৃত্যু দেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম নয়। তাছাড়া পাগলা বাজারে গ্রীন ডেলটা ক্লিনিকের নামে এর পূর্বেও অনেকের অভিযোগ রয়েছে, টেষ্ট রিপোর্ট ভুল দেয়া তাদের নিত্যদিনের ভুল। আর তাদের ভূলের কারনে আমরা আমদের বোন কে হাড়িয়েছি। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন এর বিচার করুন না হয় আমার মত আরও অনেক ভাইয়ের এই ভুল চিকিৎসায় হাড়াতে হবে তাদের আদরে বোনদের।

আয়েশার ভাই শান্ত আরও বলে, অজ্ঞান করার ইনজেকশন দেয়ার পূর্বেও আমার বোন স্বাভাবিক ছিলো, কথা বলছিলো। চোখের সামনে এভাবে হারিয়ে ফেললাম আমার বোনকে। আমি এর সঠিক বিচার চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপন জন হাড়ানোর বেদনা আপনি জানেন। তাই আপনার কাছে আমি এর সঠিক বিচার চাই।

মৃত আয়েশার বাবা জানায়, আমরা ফতুল্লা থানাতে ইনফর্ম করেছি তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে এটার মামলা নিয়ে ভাল একটা বিচার করবে। ওসি সাহেব মেয়ের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুসারে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close